রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তানে শিশু বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দিল তালেবান

আফগানিস্তানে তালেবান শিশু বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে, যা মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগের কারণ।

আফগানিস্তানে শিশু বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দিল তালেবান

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের অধীনে প্রথমবারের মতো শিশু বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করেছেন। নতুন আইনটি নারীদের স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তালাক নেওয়ার অধিকারকে কার্যত কেড়ে নিয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা জানান, আফগানিস্তানে জোরপূর্বক বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নেই, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন, ১১ বছর বয়সের পর মেয়েদের শিক্ষায় বাধা দেওয়ার কারণে প্রায় ৭০ শতাংশ মেয়েকে আগেভাগে বা জোরপূর্বক বিয়েতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, যে মেয়ে পরে বলবে যে তার বিবাহ জোরপূর্বক হয়েছে, সে স্বামীর অনুমতি ছাড়া তালাক নিতে পারবে না। আইনটি এমন নির্দেশনা দিচ্ছে যে, একজন নারী শুধুমাত্র স্বামীর অনুপস্থিতি বা আর্থিক সহায়তা না দেওয়ার জন্য তালাক নিতে পারবেন না।

এ সপ্তাহে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে নতুন আইনের বিরোধিতায় প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি নারী অধিকারবিষয়ক সংগঠন আইনটিকে নারীর ও শিশুর প্রতি প্রথাগত সহিংসতার একটি রূপ হিসেবে সমালোচনা করেছে।

মানবাধিকার কর্মী ফাতিমা বলেন, ‘তালেবান শিশু বিবাহকেও সরকারি আইনের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা করছে। মানবাধিকারের ওপর দমন চালাচ্ছে।’

জাতিসংঘের আফগানিস্তানের সহায়তা মিশনও (ইউএনএএমএ) এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, ‘এই প্রজ্ঞাপন আফগান নারীদের ও মেয়েদের অধিকার ক্ষয় করার আরেকটি পদক্ষেপ।’

তালেবান সরকারের একজন মুখপাত্র নতুন আইনকে নিয়ে সমালোচনা অগ্রাহ্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘যাদের ইসলামের সঙ্গে সমস্যা আছে, তাদের প্রতিবাদে আমরা কোনো মনোযোগ দেব না।’

আফগানিস্তান হিউম্যান রাইটস সেন্টারের গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে শিশু বিবাহের বেশিরভাগ ভুক্তভোগী নিজ স্বামীর ঘরে নির্যাতনের শিকার।

আফগানিস্তান স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের আব্দুল আহাদ ফারজাম বলেন, ‘তালেবানের নতুন আইন শিশু বিবাহকে বৈধতা দিচ্ছে এবং নারীদের অধিকারকে আইনিভাবে অসম ও অধস্তন অবস্থায় রাখছে।’

বিজ্ঞাপন