ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি 'না' হলে আবারও সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) সিঙ্গাপুরে এক সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে পুনরায় হামলা চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
হেগসেথ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এ ধরনের অভিযানের জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। তিনি বলেন, 'প্রয়োজনে আমরা আবারও অভিযান শুরু করতে পারি। আমাদের সক্ষমতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।' তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মোতায়েন থাকা অস্ত্রভাণ্ডার এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য যথেষ্ট।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে হেগসেথ উল্লেখ করেন, ইরান সংঘাতে জড়িত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রতিরক্ষা শিল্পখাতকে আরও শক্তিশালী করছে এবং দ্রুতগতিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই রয়েছেন। হেগসেথ জানান, ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান, যা নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনোই 'পারমাণবিক অস্ত্র' অর্জন করতে পারবে না।
ট্রাম্প শুক্রবার জানান, ইরান যুদ্ধের অবসান সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নিয়ে হোয়াইট হাউসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে, যাতে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য আলোচকদের অতিরিক্ত সময় মিলবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যত নিয়ন্ত্রণের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়েছে।