গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন যে, ভুট্টা চাষের ভরা মৌসুমে তারা পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না। ডিলারদের কাছে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার কারণে কৃষকেরা হতাশায় ভুগছেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ নদী পথ পাড়ি দিয়ে ডিলারদের কাছে গেলেও প্রয়োজনীয় সার তারা পেতে পারছেন না। খুচরা সার বিক্রেতা কেন্দ্র চালু করেও সমাধান মিলছে না। কৃষি অধিদপ্তর জানাচ্ছে, গোডাউনে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সেগুলো পর্যায়ক্রমে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
চরাঞ্চলের কৃষকরা জানাচ্ছেন, ভুট্টা চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি। তারা প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে কৃষির অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। কিন্তু এ বছর ভুট্টা চাষের শুরুতেই তীব্র সার সংকট দেখা দিয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলার কৃষক আল আমিন বলেন, 'ভুট্টার আবাদের ভরা মৌসুমে ইউরিয়া সার পাচ্ছি না। ডিলারের কাছে গিয়ে সামান্য পরিমাণ সার দিচ্ছে।' অন্য এক কৃষক সামাদ মিয়া বলেন, 'সারের জন্য ডিলারের কাছে গেলে তারা বিএএস এর কাছে যেতে বলে, কিন্তু বিএএস কৃষি অফিসারের কাছে যেতে বলে।'
অন্যদিকে, সুন্দরগঞ্জের কৃষক আইজার আলী বলেন, 'ভুট্টা আবাদের জন্য পর্যাপ্ত ইউরিয়া সারের প্রয়োজন, কিন্তু পাচ্ছি না। খোলা বাজারে সার ছাড়লে কৃষকদের হয়রানি কমবে।'
কৃষি অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, 'এবার জেলার ১৬৫টি চরে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।'
স্থানীয় কৃষকরা আশা করছেন, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে যাতে তারা সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সার পেতে পারেন এবং তাদের ভুট্টা চাষের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারেন।