ভারত-চীন সীমান্তের ‘লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল’ (এলএসি) এলাকায় চীনা সেনাদের টহলনীতির বাইরে গিয়ে কর্মকাণ্ড চালানোর ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীনের প্রতিষ্ঠিত টহল ব্যবস্থার ব্যত্যয় ঘটলে মাঝে মাঝে পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়।
ভারতীয় সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সম্প্রতি ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর বলেন, অরুণাচল প্রদেশের একাধিক পয়েন্টে চীনা বাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সেনাদের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে।
কাপুর জানান, এই মুখোমুখি অবস্থানের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইটিবিপির নতুন গঠন ‘শৌর্য কমান্ডো’ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তের সব ইউনিটের জন্য ড্রোন প্লাটুন গঠন করা হয়েছে।
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নতুন একটি ‘স্ট্রাইক কোর্স’ও প্রস্তুত করা হয়েছে। এর আগে, জুলাই ও আগস্টে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার দুর্গম এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী ও চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
এদিকে, উভয় দেশই চার বছর আগে সম্পর্কের চরম অবনতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক কমান্ডারদের বৈঠক এবং চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া, সীমান্ত উত্তেজনার পাশাপাশি চীনা যন্ত্রপাতির ওপর রফতানি নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য ঘাটতি ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চীন ভিসা না দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোও মোকাবিলা করছে নয়াদিল্লি।