জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী দল। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের আর কখনও রাজনীতি করতে দেবে না।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছিল দেশের সম্পদ লুটপাট করার জন্য। তিনি অভিযোগ করেন, দলটির এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর বিদেশে দুই শতাধিক বাড়ি রয়েছে।
বুধবার ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে স্পিকারকে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তজুমদ্দিন উপজেলা শাখার পক্ষ থেকেও স্পিকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। স্পিকার তার নির্বাচনী এলাকায় বিগত শাসনামলের বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০১ সালে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন তোফায়েল আহমেদ, যিনি পরাজিত হয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে এক সন্ত্রাসীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করান।
স্পিকার আরও জানান, সেই ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে লালমোহনে ৫০০ বিঘা জমি ও ঢাকায় একাধিক বাড়ি তৈরি করেছিলেন, কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেসব সম্পদ রেখে পালিয়ে যান।
তিনি তজুমদ্দিনের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে বলেন, তজুমদ্দিনকে পৌরসভায় রূপান্তর করা হবে এবং বিনোদনের জন্য মেঘনার পাড়ে একটি পার্ক নির্মাণ করা হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার অনুষ্ঠানের আগে উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।