মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে চলমান উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়ার একটি বিশেষ বিমান তেহরানে অবতরণ করেছে। বিমানটি, যাকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'ডুমসডে প্লেন' বা 'কেয়ামতের বিমান' হিসেবে অভিহিত করে, যুদ্ধবিমান নয় বরং সংকটকালীন যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
মস্কো থেকে উড়ে এসে টিইউ–২১৪পিইউ নামের এই বিমানটি তেহরানে অবতরণ করে। এটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রশাসনের বিশেষ ফ্লাইট স্কোয়াড্রনের অংশ। এই বিমানটি সংকটের সময় আকাশে উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করতে সক্ষম।
রাশিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের উদ্দেশ্য জানায়নি, তবে অতীতে দেখা গেছে, এই বিমানটি সাধারণত তখনই দেখা যায় যখন রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে যান। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার আগে এই একই বিমান তেহরানে এসেছিল।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের তেহরান সফর নির্ধারিত রয়েছে। বিমানটি সংকটের সময় নিরাপদ যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম, যার মধ্যে রয়েছে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উন্নত কমান্ড সিস্টেম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিমানটি শুধুমাত্র একজন ভিআইপিকে বহন করার জন্য নয়, বরং এটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই বিশেষ বিমান তেহরানে পৌঁছানো একটি কৌশলগত সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি বোঝাচ্ছে যে, মস্কো এখনো তেহরানকে একা ছেড়ে দিতে রাজি নয়।