ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (BMJ) প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানা গেছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল চুক্তি ২২৯,০০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এই চুক্তির ফলে বিলিয়ন পাউন্ডের অর্থ ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (NHS) থেকে অন্যত্র স্থানান্তরিত হচ্ছে।
ডিসেম্বরে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ফার্মাসিউটিক্যাল বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার আগামী তিন বছরের জন্য যুক্তরাজ্যের ফার্মাসিউটিক্যাল এবং মেডিকেল প্রযুক্তির রপ্তানিতে শুল্ক আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ব্রিটিশ সরকার এনএইচএসের নতুন মার্কিন ওষুধের জন্য ব্যয় ২০২৬ সালে ০.৩ শতাংশ থেকে ২০৩৬ সালের মধ্যে অন্তত ০.৬ শতাংশে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর ফলে, ওষুধের ব্যয় এনএইচএস বাজেটের ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে।
যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান মন্ত্রী প্যাট্রিক ভ্যালেন্স এই চুক্তির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এটি রোগীদের জন্য “জীবন পরিবর্তনকারী নতুন ওষুধ” পাওয়ার সুযোগ দেবে। তবে BMJ-তে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, নতুন ব্র্যান্ডেড ওষুধের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় স্বাস্থ্যসেবায় অন্যান্য খাতে চাপ সৃষ্টি করবে।
লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি ও থেরাপিউটিক্স বিভাগের অধ্যাপক স্যামুয়েল ক্রস বলেন, এই চুক্তি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক, কিন্তু এনএইচএস রোগীদের জন্য খরচের কারণ।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩৬ সালের মধ্যে এই চুক্তির ফলে আনুমানিক ২২৯,০০০ অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটতে পারে, যা কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের তুলনায় বেশি।
এছাড়াও, প্রতিবেদনটি জানায় যে, স্বাস্থ্য সেবায় অর্থের অভাব এবং ফার্মাসিউটিক্যাল মূল্যের কারণে এই চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ক্রস বলেন, NHS-এর বাজেট সীমিত এবং অতিরিক্ত ওষুধের জন্য অর্থ সরালে অন্য খাতে ক্ষতি হবে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, হৃদরোগ, শ্বাসযন্ত্র, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল এবং ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হবে। এছাড়া, রোগীদের জীবনের গুণগত মানেও ক্ষতি হবে।