শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওসির সঙ্গে এমপি রুমিনের বাদানুবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমপি রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসির বাদানুবাদ, পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওসির সঙ্গে এমপি রুমিনের বাদানুবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে থানার ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় রুমিন ফারহানা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনি তো অনেক বড় আওয়ামী লীগ ছিলেন।" এই বক্তব্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতন, ঘুষ ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ করেন।

ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রুমিন ফারহানা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না পাওয়া নিয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলছেন এবং পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন।

এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, পুলিশ মারধর করে তার পা ভেঙে দিয়েছে এবং তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। এছাড়া, এক পুলিশ সদস্য তার ছোট শিশুকে চড় মেরেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করতে শোনা যায়। ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সংসদ সদস্যের শেখানো কথাই বলছেন অভিযোগকারী।

রুমিন ফারহানা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। বিজয়নগর ও আশুগঞ্জে নিরাপত্তা পেলেও সরাইলে তা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, বারবার ফোন করার পরও ওসি তার ফোন ধরেননি। এমপি বলেন, সরাইলের মতো সংঘাতপ্রবণ এলাকায় পুলিশের যথাসময়ে ঘটনাস্থলে না পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সময় থানায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাদের কেউ কেউ ওসির অপসারণ দাবি করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ সদস্যদের কথা বলতে দেখা যায় ভিডিওতে।

ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, দুর্গাপূজার সময় সব মণ্ডপের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তবে সংসদ সদস্যের জন্য আলাদা নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি ভিন্ন।

বিজ্ঞাপন