লক্ষ্মীপুরে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জেলেরা ও ব্যবসায়ীদের একটি অসাধু চক্র নৌ-পুলিশকে ঘুষ দিয়ে নদীতে মাছ ধরার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
৭ই অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরসহ ৩৮টি জেলায় কার্যকর রয়েছে। প্রতি বছর আশ্বিনের পূর্ণিমায় ইলিশ ডিম ছাড়তে সাগর থেকে নদীতে আসে। তবে, নিষেধাজ্ঞার প্রথম সপ্তাহে ৮৫ জন জেলেকে জেল-জরিমানা করা হলেও অবৈধ মাছ ধরা থামেনি।
জেলেরা অভিযোগ করেছেন যে, তারা এখনও বরাদ্দের ২৫ কেজি চাল পাননি। ফলে, পেটের দায়ে নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, দোকানদার ও রিকশাচালকদের নামও সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রকৃত জেলেদের জন্য অমানবিক।
লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আবদুর রহমান জানিয়েছেন, স্বল্প জনবল নিয়ে নদীতে টহল দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জেলেদের সাথে আঁতাত ও অনিয়মের প্রশ্নই উঠে না।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য প্রশাসন, পুলিশ ও কোষ্টগার্ড সমন্বয়ে অভিযান চালাচ্ছে। তিনি কোনোরকম ছাড় না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে, লক্ষ্মীপুরের ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার এখনও খাদ্য সহায়তা পাননি। নদীপাড়ের মানুষ প্রকৃত জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করার এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।